রবীন্দ্রনাথ ও ইয়েটস --- অজানা কথা


উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস (১৮৬৫-১৯৩৯) জন্মসূত্রে আইরিশ এবং বিশ শতকের ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। ১৯১৩-তে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দশ বছর পরে ১৯২৩-এ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি।
গীতাঞ্জলি (Song Offerings)-এর সম্পাদক ও ভূমিকা-লেখকও তিনি। ইংল্যান্ডে প্রথম যে-চারজন রবীন্দ্রনাথের 'গীতাঞ্জলি’-র ইংরেজি অনুবাদ পড়ে মুগ্ধ হন ইয়েটস তাঁদের অন্যতম। ইয়েটস তাঁর মুগ্ধতার
বিবরণ তাঁর লেখা ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। লণ্ডনের যে ইন্ডিয়া সোসাইটির উদ্যোগে 'Song Offerings' প্রকাশিত হয় ইয়েটস সেই সােসাইটিরও অন্যতম সদস্য। এখান থেকে প্রকাশিত হয়ে বইটি সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং খ্যাতি লাভ করে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজিতে অনূদিত দ্বিতীয় বই 'The Gardener' ইয়েটসকে উৎসর্গ করেন। রবীন্দ্রনাথ লন্ডনে পৌঁছলেন ১৬ জুন ১৯১২ তারিখে। ইয়েটস যখন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ১৯১২-তে পরিচিত হলেন তখন তাঁর
বয়স ৪৭, আর রবীন্দ্রনাথের বয়স ৫১। জুলাই মাসের ৭ তারিখে রােদেনস্টাইনের বাড়িতে সমবেত গুণীজনের কাছে ইয়েটস যখন রোদেনস্টাইন-এর কাছ থেকে পাওয়া ইংরেজিতে অনূদিত গীতাঞ্জলি থেকে কিছু কবিতা পড়ে শোনালেন, সকলেই অভিভূত হলেন। আর
কবি স্টার্জ মুর যখন বললেন, কবিতাগুলো বড় বেশি রকম আশাবাদী, তখন ইয়েটস বললেন, 'তাই নাকি? কিন্তু ইনি ঈশ্বরে একেবারে নিমজ্জিত।' ('Imperfect Encounter' থেকে অনূদিত)

ইন্ডিয়া সোসাইটির সচিব ফক্স স্ট্রাংওয়েজ যখন ইয়েটস-এর অনুবাদ দেখে দেওয়ার কাজে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তখন ইয়েটস ভয়ংকর চটে গিয়ে রােদেনস্টাইনকে ৭ সেপ্টেম্বর ১৯১২ তারিখে একটি চিঠি লেখেন :
... একটা অসহ্য চিঠি পেয়েছি, স্ট্যাংওয়েজ নামে একজন লোকের কাছ থেকে – টেগোরের অনুবাদ বদলাতে চান তিনি। এই ধরনের লোককে কেন যে ইন্ডিয়া সোসাইটি খাইয়ে দাইয়ে মোটা করে বুঝতে
পারি না – লোকটা একেবারে একটি পাতিহাঁস। আমি চাই আপনি সোসাইটিকে বোঝান, বইটি সম্পাদনা করার দায়িত্বটা আমার; যে কোনো প্রকাশকের মতো ওরা আমাকে প্রুফ...... 


--------------------------------------------------
আরো পড়ুন - রবীন্দ্রনাথ ও রোদেনস্টাইন
--------------------------------------------------

এখানে রবীন্দ্রনাথ তার গীতাঞ্জলি’-র ইংরেজি অনুবাদ নিজে করেননি, সেটা করেছিলেন অ্যান্ড্রুজ বা ইয়েটস – অনেকের এরকম একটা ভুল ধারণা ভেঙে যাবে যদি আমরা রােদেনস্টাইনকে লেখা ইয়েটস-এর এই চিঠির মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত কয়েকটি বাক্যবন্ধ দেখি -
‘টেগোরে অনুবাদও’, 'সম্পাদনা করার দায়িত্বটা আমার' এবং 'আমি প্রুফটা যথাসাধ্য ভালোভাবে দেখব'। অর্থাৎ সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হল' গীতাঞ্জলি’-র ইংরেজি অনুবাদ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের, ইয়েটস-এর দায়িত্ব শুধু সম্পাদনা ও ভালোভাবে প্রুফ দেখার – যা যে-কোনো ভালো বই প্রকাশের সময় হয়ে থাকে।

এরপর ইয়েটস 'গীতাঞ্জলি’-র একটি দীর্ঘ ভূমিকা লিখে রােদেনস্টাইনকে পাঠিয়ে দিলেন ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১২ তারিখে। ভূমিকায় লিখলেন :
....এই অনুবাদগুলির পাণ্ডুলিপি সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি দিনের পর দিন, রেল গাড়িতে বসে পড়েছি, বাসে বসে পরেছি, খাবার দোকানে বসে পড়েছি – পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝেই খাতা বন্ধ করে ফেলতে হয়েছে, যদি কোন অচেনা লোক দেখে ফেলে আমি কাঁদছি। এই সব গীতিকবিতা – আমার ভারতীয় বন্ধুদের কাছে শুনেছি, মূল রচনার ভাষা ও ছন্দের অনিন্দ্য সব সূক্ষ্ম সুষমায় ভরা, তার রঙের সুকুমারত্ব, তার ছন্দের অভিনব বিধূনন, সে নাকি অনুবাদকর্মের সকল চেষ্টার অতীত – এদের চিন্তার মধ্যে দিয়ে এমন একটি পৃথিবীকে প্রকাশ করে যার কথা আমি সারাজীবন ধরে স্বপ্নের মধ্যে ভেবেছি। একটা সুপ্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির চরম প্রকাশ এই কাব্য, কিন্তু এমন
স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে যেমন সহজে মাটিতে জন্মায় ঘাস, জলে নলখাগড়া, একটি ঐতিহ্য যেখানে কবিতা আর ধর্মবােধ সমার্থক, শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে এসেছে, শিক্ষিত ও নিরক্ষর উভয়ের কাছ থেকেই গ্রহণ করেছে উপমা ও আবেগ, তারপর জনসাধারণের কাছে ফিরে গেছে মহান চিন্তার প্রকাশ কে বহন করে।...
(Introduction - Song Offerings - WB Yeats থেকে অনূদিত)

রবীন্দ্রনাথের কবি হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বময়। কিন্তু পরবর্তীকালে নানা কারণে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁর উৎসাহ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।

এরপর ১৯৩১-এ রোদেনস্টাইন ইয়েটসকে অনুরোধ করেন রবীন্দ্রনাথের সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে 'The Golden Book of Tagore'-এ লেখার জন্য। ইয়েটস আলাদা কোনো লেখা না দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠি ‘গোল্ডেন বুক’-এ ছাপা হয় :
... আমি আপনাকে বলতে চাই, আমি এখনো আপনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছাত্র ও গুণগ্রাহী।... আপনি তো জানেন, আপনার কবিতা আমার কাছে এসেছিল এক বিরাট উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে; সম্প্রতিকালের বছরগুলিতে আমি আপনার গদ্যে প্রজ্ঞা ও সৌন্দর্যের পরিচয় পেয়েছি -- ‘ঘরে বাইরে’-তে, আপনার ছোটগল্প গুলিতে ও আপনার জীবনস্মৃতি'-তে।...
('Selected Letters' থেকে অনুদিত)



এর বছরখানেক পরে ২৬ নভেম্বর ১৯৩২ তারিখে রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'গীতাঞ্জলি’-র ইংরেজি অনুবাদ সম্পর্কে অনেক জল্পনার ব্যাপারে রােদেনস্টাইনকে একটি চিঠি লেখেন (রােদেনস্টাইনের চিঠির উত্তরে) যাতে তিনি গীতাঞ্জলির অনুবাদকর্মটির পুরো ইতিহাস বিবৃত করেছেন :
... কবিরা চিরকালই দেমাকি হয়ে থাকে, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। ফলে, আমি যদি আমার বাংলায় লেখা কবিতাগুলো বিষয়ে কোনো বাড়াবাড়ি ধারণা পোষণ করে থাকি, আপনি হয়তাে মৃদু হেসে সহ্য করে যাবেন; কিন্তু আমার ইংরেজি রচনার জন্য সেই রকম অতিরিক্ত মূল্য দাবি করব আমি ততদূর মূর্খ নই, কারণ ওটা ধার-করা ব্যাপার, অনেক পরে এসেছে আমার জীবনে। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে কি রকম বাধোবাধো ভাবে আপনার হাতে আমার গীতাঞ্জলি'-র (ইংরেজি অনুবাদের) পান্ডুলিপিটি অর্পণ করেছিলাম – আমি
জানতাম আমার ইংরেজি একেবারেই আকৃতিহীন এবং তার ব্যাকরণ এমনই যে স্কুলের ছাত্র সেরকম লিখলে বকুনি খাবে।......... তারপর এল সেই আনন্দময় দিনগুলি যখন আমি কবিতাগুলি নিয়ে ইয়েটস-এর সঙ্গে বসলাম, তাঁর কলমের জাদু আমার ইংরেজিকে কিছুটা স্থায়িত্ব দিল।...আমার অনুরোধ, আমার কবিতাকে বিদেশি চেহারায় প্রতিষ্ঠা দেয়ার বিপজ্জনক কর্মে ইয়েটস যে সাহায্য করেছেন তার জন্য আমার পক্ষ থেকে তাঁকে আরো একবার ধন্যবাদ দেবেন। তাঁকে বলবেন, আমি অন্তত তাঁর সাহিত্যিক বন্ধুত্বের মূল্যকে কখনো ছোট করে দেখি না।...
(মূলপত্র – রােদেনস্টাইন সংগ্রহ – হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়)

ইতিপূর্বে ১৯১৭-তে ইয়েটস একটি চিঠি লেখেন ম্যাকমিলান কোম্পানিকে যেখান থেকে রবীন্দ্রনাথের 'Song Offerings' মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। পঞ্চাশ বছর পরে সেই চিঠিটি সাইমন নােয়েল সম্পাদিত 'Letters to Macmillan' নামক গ্রন্থে গ্রথিত হয়। চিঠিটি হল :
১৮ য়োবার্ন বিল্ডিং
২৮ জানুয়ারি ১৯১৭
.. অতীতে আমাকে কী বিপুল পরিমাণ সংস্কার করতে হয়েছে তা হয়তো আপনাদের জানা নেই। ইংরেজি গীতাঞ্জলি'-র জন্য আমি কী করেছি, এমনকি ‘দ্য গার্ডেনার’-এর পাণ্ডুলিপির জন্য কী করেছি তা উইলিয়াম রোদেনস্টাইন আপনাদের বলতে পারবেন। লেখক (রবীন্দ্রনাথ) যা বলতে চেয়েছেন ঠিক সেটুকুই যাতে বের হয়ে আসে সেই চেষ্টাই করা হয়েছিল কেবল....... টেগােরের ইংরেজি হল বিদেশির ইংরেজি — আমাকে তিনি লিখেওছিলেন। তিনি ধরতেই
পারেন না 'কোন শব্দ থেকে তার আত্মা গেছে হারিয়ে'। বাক্যের পর বাক্য বাদ দিয়ে দিতে হয়েছে আমাকে, দিনের পর দিন ধরে, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে পরিশ্রম করে যেতে হয়েছে আমাকে তার জন্য।....... আমার অনুরােধেই টেগাের আমার কাছে কোনো ঋণ স্বীকার করেন নি। আমি জানতাম, তা করলে তাঁর ভারতীয়
শত্রুরা ব্যাপারটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে একটা অসম্ভব ব্যাপার করে তুলে জিনিসটাকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে।..
(‘খ্যাতি অখ্যাতির নেপথ্যে' থেকে অনুদিত)

ইংরেজি Song Offerings'-এর অনুবাদ সম্পর্কে ইয়েটস-এর এই দাবি ও অনুযোগ কতটা সঙ্গত তা অধ্যাপক সৌরীন্দ্র মিত্র তাঁর "খ্যাতি অখ্যাতির নেপথ্যে" গ্রন্থে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন।



প্রাথমিকভাবে ইংরেজি গীতাঞ্জলি'-র ১০৩টি কবিতার মধ্যে রোদেনস্টাইনকে উপহার দেওয়া খাতায় যে ৮৩টি কবিতার পাণ্ডুলিপি দেখা যায় তাদের মিলিত শব্দসংখ্যা প্রায় দশ হাজার, আর তাতে ইয়েটস কর্তৃক পরিবর্তিত শব্দের সংখ্যা মাত্র ৪৫ টির বেশি নয়। এই ৮৩টি কবিতায় বাক্য (sentence) আছে প্রায় ৫০০টি, তার মধ্যে ইয়েটস-এর পরিবর্তনের স্পর্শ আছে মাত্র ৪৩টি বাক্যে। তাই রবীন্দ্রনাথের মূল পান্ডুলিপি ও ইয়েটস-এর দ্বারা সংশোধিত 'Song Offerings' যা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল – এই দুটি পাশাপাশি মিলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে ইয়েটস-এর 'কী বিপুল পরিমাণ
সংস্কার’-এর অনুযোগ কতটা অযৌক্তিক। এখানে উল্লেখ্য --- ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি'-র মূল খাতাটি যেটি রবীন্দ্রনাথ রোদেনস্টাইনকে উপহার দিয়েছিলেন, তার ফ্যকসিমিলি বা অবিকল প্রতিলিপি সংস্করণ কিছুদিন
আগে 'সাহিত্য সংসদ’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। যে কোনো পাঠকই এখন তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।

আর রোদেনস্টাইন তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন - 
.. The original of Gitanjali in English and in Bengali is in my possession. Yeats did here and there suggest changes but the main text was printed as it came form Tagore's hands.
(Rothenstein, Man and Memories, p. 301 - Selected Letters, p 418)

স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি’-র।
নিজের করা অনুবাদ যা 'Song Offerings' হিসেবে ছাপতে যাওয়ার আগে ইয়েটস সামান্য কিছু পরিবর্তন করেছিলেন।

এখানে একটি তথ্য বিশেষভাবে লক্ষণীয় – রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ইয়েটস তাঁকে একটি চিঠি লিখেও অভিনন্দন জানাননি। তবে কি রবীন্দ্রনাথের এই অপ্রত্যাশিত নোবেল পুরস্কার
লাভে ইয়েটস-এর কিছুটা ঈর্ষার সঞ্চার হয়েছিল কিংবা এই কৃতিত্বের কিছুটা ভাগীদার হওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল — যার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে তাঁর অনেকটা অন্যায্য দাবি ও অনুযােগে? তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ইয়েটস রবীন্দ্রনাথের কবিতার অনুবাদ সম্পর্কে অনুযোগ জানালেও তাঁর গদ্য রচনার অনুবাদ সম্পর্কে উৎসাহ হারাননি; বিশেষত, তাঁর  'জীবনস্মৃতি’-র অনুবাদ বিষয়ে খুবই আশাবাদী ছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর করা অনুবাদ 'My Reminiscences' নামে
প্রকাশিত হয় লন্ডনের ম্যাকমিলান প্রকাশনা থেকে। ২৫ এপ্রিল ১৯১৭ তারিখে বইটি প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে ইয়েটস বইটি পড়ে ফেলেছিলেন। ইয়েটস-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিল বইটি। শেষজীবনেও এটির কথা চিঠিপত্রে উল্লেখ করেছেন। ইয়েটস চাইতেন, পাশ্চাত্য পৃথিবী রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক ভাবমূর্তির সকল দিকের সঙ্গে পরিচিত হোক, শুধু 'গীতাঞ্জলি-র কবি' এই অভিধার মধ্যে যেন তাঁর খ্যাতি সীমাবদ্ধ না থাকে। এজন্য ২৪ এপ্রিল ১৯১৮ তারিখে তিনি রবীন্দ্রনাথকে লেখেন :
... অনেক দিন আপনাকে চিঠি লেখা হয়নি, কিন্তু আপনার কথা যে  মনে পড়ে না তা নয়। আপনার জীবনস্মৃতি’ পড়তে খুব ভালাে লাগলো। পরের অংশটাও লিখুন না, আমাদের জন্য? ...
(Selected Letters' থেকে অনূদিত)

১৯৩৯-এ ইয়েটস-এর মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন :
... মৃত্যুতে লুপ্ত হওয়া ইয়েটস-এর জন্য নয় জীবিতকালেই তিনি সাহিত্যের ধ্রুপদী উচ্চতায় আরোহণ করেছেন। আজ আমার মনে পড়ছে সেই সময়ের কথা যখন আমি প্রথম তাঁর সঙ্গে পরিচিত
হয়েছিলাম – জীবনের, তারুণ্যের অজস্রতায় পরিপূর্ণ। তাঁর দীপ্যমান প্রতিভার এই ছবি মানুষের চিরকালের স্মৃতিতে অক্ষয় হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। শেষ পর্যন্ত এই গর্ব আমার থাকবে যে আমার জীবনের সঙ্গে আধুনিক ইউরোপের এক বিরলতম কবির স্মৃতি গাঁথা
হয়ে রইল।...
(হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড – ৩১ জানুয়ারি ১৯৩৯ থেকে অনূদিত)


















---------------------------------------   
ঋণ : পরেশচন্দ্র দাস

0/Post a Comment/Comments

নবীনতর পূর্বতন